Book review

আসমান

যে গল্প জীবনের চেয়েও বড়

উপন্যাস

লেখক: লতিফুল ইসলাম শিবলী

প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০১৯

আমেরিকার কুখ্যাত জেল গুয়ানতানামো বে থেকে বিনা বিচারে ১২ বছর জেল খেটে মুক্তি পেয়েছে এক বাংলাদেশি। ওয়াশিংটন পোষ্ট এর এই খবরে চমকে গেছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে এমন সন্ত্রাসীর দায়িত্ব বাংলাদেশ নেবে না। আমেরিকান আর্মির কার্গো প্লেন তাকে ফেলে গেছে আলবেনিয়ার তিরানা বিমান বন্দরে। ট্রাভেল ডকুমেন্টহীন দেশহীন মানুষটাকে পৃথিবীর কোন দেশ রাজনৈতিক আশ্রয় দেয় না। রিফিউজির স্ট্যাটাস নিয়ে তাকে থাকতে হবে রেড ক্রসের শেল্টারে। মানুষটা এখন কোথায় যাবে? চেনা সব দরজা বন্ধ হলে গেলে, একটা অচেনা দরজা খুলে যায়, জীবন বন্দী হয়ে গেলে সেটা জীবনকেও ছাপিয়ে যায়, সেই জীবনের গল্প জীবনের চেয়েও বড় হয়ে যায়…………

BUY THIS BOOK FROM ROKOMARi BUY THIS BOOK FROM AMAZON

 

পাঠক প্রতিক্রিয়া


পাঠক প্রতিক্রিয়া – ১

“আসমান”হাতে পেয়ে,পড়ে লেখক এবং এই উপন্যাস সম্পর্কে না লিখলে লেখকের প্রতি অবিচার হবে৷এতোটাই মুগ্ধতায় ডুবে গেলাম৷”আসমান” পড়লাম এক নিঃশ্বাসে৷অভূতপূর্ব স্টাইলে লেখা বাংলা উপন্যাস৷লেখনীর শৈলীকে ছাপিয়ে উঠেছে লেখকের তীক্ষ্ণ দৃষ্টির পর্যবেক্ষণ৷আধ্যাত্মিকতা,জীবন দর্শন,তাকদীর এর সংমিশ্রণ ঘটেছে তার লেখনীতে৷কবিতা আমার ভীষন রকম প্রিয়৷কবিতার রুপকল্প তার উপন্যাসকে দিয়েছে ভিন্নমাত্রা৷

জীবনের গহীন অনুভবকে অনেক স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে প্রকাশ করেছেন লেখক তার ইউনিক স্টাইলে৷অদ্ভুত রকমের ঘোরের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলাম “আসমান” পড়বার পুরোটা সময়৷টগবগে এক মুসলিম তরুনকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে এর কাহিনী৷

শেষটুকু পড়তে গিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে গেলাম,চোখ ভিজে গেল৷ভীষন ভালো লেগেছে আমার এই উপন্যাসটি পড়তে৷পুরো উপন্যাস জুড়েই আধ্যাত্মিকতায় নিমগ্ন ছিলাম৷মনে হচ্ছিল কোন চলচ্চিএের চিএনাট্য পড়ছি, আরেকবার মনে হলো পূর্নদৈর্ঘ্য চলচ্চিএ দেখছি৷এতো সুন্দর এবং সুচারুভাবে সেটা উপস্থাপন করেছেন লেখক লতিফুল ইসলাম শিবলী৷এক কথায় অনবদ্য৷

Eva Khan

Article link


পাঠক প্রতিক্রিয়া – ২

‘লতিফুল ইসলাম শিবলী’ ভাই এর লেখা। হোক সেটা গানের কলি, হোক সেটা গল্প-উপন্যাস এর কথামালা। সেই কোন কৈশরকালে অপেক্ষায় থাকতাম কবে শিবলী ভায়ের লেখা গান আসবে ক্যাসেটে। দিন বদলে এখন অপেক্ষায় থাকি কবে ভাইয়ের লেখা বই আসবে।
‘আসমান’ আর যাই কিছু হোক না কেনো ‘দারবিশ’ অথবা ‘দখল’ থেকে অনেক ভিন্ন। আমার মতে এই তিনটির মধ্যে ‘আসমান’ শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে।
এটি আসলেই জীবনের চেয়ে বড় গল্প। এ গল্প শুধু গল্পই না; এতে মানুষের জীবন দর্শনের বেশ কিছু শুভ ইংগিত আছে, আছে সু-পরামর্শ। পাশাপাশি আছে কিছু অশুভ তত্ত্ব।
আমি আমার বিবেক দিয়ে গল্পের সর্বোচ্চ স্বাদ নিয়েছি সাথে মগজে গেঁথেছি শুভ ইংগিতগুলো। এটা হয়তো আল্লাহ’রই ইশারা। আলহামদুলিল্লাহ।

Leeon Haque

Article link


পাঠক প্রতিক্রিয়া – ৩

Unpublished

Unknown

Article link


পাঠক প্রতিক্রিয়া – ৪

চোঁখের পানির নাম !- মহাজাগতিক পানি।
অদ্ভদ নাম, কখনো ভাবিনি চোঁখের পানির নাম হয়, রাখা যায়/
[অন্তর ছোঁয়া যায়, হৃদয় দিয়ে]
নেশা, প্রেমের নেশা, বন্ধুর নেশা।
পিনিক আছে?
তুই না থাকলে কি ….. থাকে?
[পিনিক, অদ্ভুদ পিনিক নেয়, দুই বন্ধু-
আসলেই একা একা নেশা হয় না, বন্ধু দরকার।
বাউন্ডুলে থেকেছি অনেক অনেক, আরো থাকবো।
ঠিক যেমনি থাকে, “ওমার-রুশো”-
(আমি পুরুষ) ‘পুরুষের সফল আর শ্রেষ্ঠ হতে এত কিছু লগে না, যে পুরুষ তার স্ত্রীর কাছে শ্রেষ্ঠ, সে-ই শ্রেষ্ঠ পুরুষ’.।
প্রেম, ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, যুদ্ধ- সবকিছুই অদ্ভুদ।
অসাধারন লাগছে পুরো বইটাই।

বিশেষ করে ১৮-৩০ বছরের উন্মাত ছেলেদের বইটা ১ পৃষ্ঠা পড়লেই পুরো বইটা পড়তে ইচ্ছা করবে…
উৎসর্গ টা তুলনা হয় না, আপনি সেরাদের সেরা, স্যার।

Mahfuz Anam Sagor

Article link


পাঠক প্রতিক্রিয়া – ৫

প্রিয় মানুষ লতিফুল ইসলাম শিবলীর তৃতীয় উপন্যাস ‘আসমান’। প্রথম উপন্যাস ‘দারবিশ’ থেকেই বইয়ের প্রথম রিভিউটা লেখার একটা চেষ্টা থাকে। গত দুই বইমেলাতে ‘দারবিশ’ ও ‘দখল’ দিয়ে ইতোমধ্যে পাঠক হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। গীতিকবির পাশাপাশি ঔপন্যাসিক তকমাটি তিনি নিশ্চিতভাবেই আয়ত্ত করে নিয়েছেন।

‘আসমান’ উপন্যাসটিকে ঠিক কোন ক্যাটাগরিতে ফেলা যায় আমি নির্ধারণ করতে পারিনি। বিষয় বৈচিত্র, সংলাপ, বর্ণনা এবং ধর্মীয় অনেক জটিল ও আলোচিত বিষয় যত সহজে তিনি প্রবাহমান বর্ণনায় উপস্থাপন করেছেন তা সত্যিই অনন্য। দারবিশ পড়ে বলেছিলাম কবিরা উপন্যাস লিখলে সেটাও কাব্যিক হয়ে যায়। ‘আসমান’ – উপন্যাসের সংলাপ এবং বর্ণনা কাব্যিক বিবেচনায় আগের দুই উপন্যাসকে নিশ্চিতভাবেই ছাড়িয়ে গেছে।

আসমানের গল্প মূলত নব্বইয়ের দশকের ঢাকার এক প্রেমঘটিত বেদনায় হতাশাগ্রস্ত যুবক ওমারের শান্তির পথ খুঁজে বেড়ানোর উপাখ্যান। পথের খোঁজে দিশেহারা এই উত্থান পতনের গল্প জীবনের চেয়েও বড়। সব ভুলে বাঁচতে অনেকের মত ওমারও বেছে নিয়েছিলো নেশার জগত। সে জগতে তার বিশ্বস্ত সঙ্গী ছিলো জীম মরিসনের অন্ধ ফলোয়ার মিউজিশিয়ান বন্ধু রুশো। নেশা ব্যাপারটাকে রুশো নিয়ে গিয়েছেলো এক ক্ল্যাসিক পর্যায়ে। রুশোর ভাষ্য ধরেই লেখক টেনে এনেছেন সে সময়কার রক মিউজিশিয়ানদের অনেক চিন্তাধারা ও খুঁটিনাটি গল্প। যেখানে কারো লক্ষ্য গায়ক হওয়া আর কারো লক্ষ্য গুরু হওয়া। কেউ গানের ভক্ত তৈরি করতে চায় কেউ চায় মুরিদ তৈরি করতে। এসব পার্থক্য কেবল দেশের ব্যান্ড সঙ্গীতের উত্থানের অন্যতম পুরোধা লেখক শিবলী ভাইরা-ই সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখেছেন। রুশোর চরিত্রটি ব্যান্ড জগতে নতুন করে আসা অনেক প্রতিভাবান শিল্পীর জীবনাচারকেই প্রতিফলিত করেছে।

রুশোর পাশাপাশি ওমারের জীবনে একসময় বন্ধু হিসেবে জায়গা করে নেয় ধানমন্ডি মসজিদের বৃদ্ধ ইমাম মাওলানা ইসহাক। উপন্যাসের এই চরিত্রটি নানা কারণে আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। হৃদয়, ভালোবাসা, অস্থিরতা এসব ব্যাপার যে ধর্মেও আছে তা চমৎকার সব উদাহরণের মাধ্যমে মাওলানা ইসহাক ব্যাখ্যা করেছেন। ইসলাম সম্পর্কে, ইসলামী বিধান সম্পর্কে এতো চমৎকার যৌক্তিক বয়ান ধর্ম নিয়ে লেখকের পড়াশোনা ও প্রজ্ঞাকেই ফুটিয়ে তুলেছে। কোরআনের অসংখ্য রেফারেন্স এবং যুক্তিপূর্ণ ব্যাখ্যায় হতাশাগ্রস্থ জীবন থেকে উত্তরণের যে পথের সন্ধান মাওলানা ইসহাক দিয়েছে তা যে কারো মনোজগতে আলোড়ন তৈরি করবে। যেমনটা ছাপ ফেলেছে উপন্যাসের মূল চরিত্র ওমারের মনোজগতে। ধর্মের মধ্যেই ওমার খুঁজে পায় ‘পারপাস অব লাইফ’।

মসজিদমুখী ওমার জীবনটাকে ভিন্ন চোখে দেখার উদ্দশ্যে ইমাম ইসহাকের ছায়া থেকে বের হয়ে ঘটনাক্রমে পৌছে পাকিস্তান। সেখান থেকে এক তালিবান নেতার হাত ধরে ভিনদেশি আরো অনেকের সাথে সাথে ওমার পৌছে আফগানিস্তান। আফগানিস্তান থেকেই আসলে উপন্যাসের মূল অংশের শুরু। এই অংশ থেকে গল্পের বয়ান বদলে গেছে। শুরু হয়েছে এক নতুন অধ্যায়ের।

বাগ্মী তালিবান নেতা খালিদের ভাষ্য দিয়েই লেখক আলোকপাত করেছেন আফগানিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাস, তালিবান উত্থানের পটভুমি ও তাদের জীবনযাত্রা। সোভিয়েত আগ্রাসন, রুখে দাঁড়ানো আফগান জাতি, মোল্লা ওমরের তালিবান গঠনের প্রেক্ষাপট কোন কিছুই বাদ যায়নি এখানে।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকার তিন সপ্তাহের ট্রেনিং আমুল বদলে দেয় এক বাংলাদেশি যুবকের ভাবনার জগত। কিন্তু বাগরাম নামক স্থানে প্রথম সম্মুখ যুদ্ধে উপন্যাসের প্রথম ধাক্কাটা লক্ষণীয়। কোনঠাসা শত্রুপক্ষের মুখে কালিমা উচ্চারণের শব্দে ওমারের ভুল ভাঙ্গে। অস্বীকৃতি জানায় শত্রুকে হত্যা করতে। দৃঢ় কন্ঠে ঘোষনা করে এক মুসলমান আরেক মুসলমানকে হত্যা করতে পারেনা।

হিন্দুকুশ পর্বতমালার পাদদেশের নগরী পাঘমানেই ওমারের সাথে প্রথম সাক্ষাত ঘটে উপন্যাসের নায়িকা আসমা ওরফে আসমানের সাথে। সবুজ চোখ, দুধের মত সাদা গায়ের রঙ আর হঠাত বাঁক নেয়া পাহাড়ি ঝর্নার মত চুলের বর্ণনার এই আফগান নারী যেন প্রেমের দেবি হয়ে পাঠকের সামনে ধরা দেয়। তকদীর ভৌগলিক দূরত্ব ছাপিয়ে তাদেরকে এক সুতোয় গেঁথে দেয়। তবু তারা জানে ও মানে পৃথিবী বিচ্ছেদের জায়গা, মিলনের জায়গা হলো জান্নাত। সেখানে হারানোর কোন ভয় কাজ করেনা।

নাইন ইলেভেনের টুইন টাওয়ার হামলার সাথে মোড় ঘুরে যায় পরিস্থিতির। আমেরিকা হামলার দায় চাপায় আল কায়েদার ওপর। ভয়াবহ বোমা হামলায় তছনছ হয় এক সমৃদ্ধ জনপদ। ঘটনাক্রমে ধরা পরে প্রাণে বেঁচে যাওয়া ওমারকে গুরুত্বপূর্ণ বন্দী হিসেবে পাঠানো হয় গুয়ান্তানামো বে কারাগারে। অকথ্য সে নির্যাতনের বর্ণনা পাঠক হৃদয়কে ছুঁয়ে যাবে নিশ্চিতভাবেই।

গুয়ান্তানামো বে কারাগারের এই অংশের কাহিনী বিনা বিচারে আটক অসংখ্য বন্দীর জীবনের গল্পকেই প্রতফলিত করেছে।

এই যুদ্ধ বিগ্রহ প্রেম বিরহ মিরাকল নিয়েই উপন্যাস আসমান। আফগান ইতিহাস, ইতিহাসের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাওয়া নির্মম সত্যগুলো জানতে হলেও আসমান পড়তে হবে। পড়তে হবে হতাশাগ্রস্ত জীবনকে ছাপিয়ে জীবনের চেয়েও এক বড় গল্পকে জানতে হলে।
শুভ কামনা লেখক শিবলী ভাইর জন্য…

Farid Farabi

Article link


পাঠক প্রতিক্রিয়া – ৬

”জীবনের সব থেকে প্রিয় জিনিস কে হারিয়ে যখন বেঁচে থাকাটা একেবারে ই অর্থহীন মনে হয় তখন এ জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে ধরা দেয়,হৃদয়ের অপূর্ণতা ই আমাদের হৃদয়ের গহীনে লুকিয়ে থাকা সৃষ্টিকর্তার স্বরূপ কে ভালোবাসতে শেখায়,সব হারিয়ে নিজেকে ফিরে পাওয়ার এক অসাধারণ উপন্যাস এর নাম “আসমান”

Unknown

Article link


পাঠক প্রতিক্রিয়া – ৭

শেষ কবে বই পড়ে চোখ করেছে ছলছল। শেষ কবে বই আমার চোখকে করেছে অশ্রুসিক্ত। শেষ কবে বইয়ের চরিত্রটা আমার ভেতর করেছি ধারণ। শেষ কবে বই আমার ঘুমকে নিয়েছে কেড়ে। শেষ কবে বইয়ের চরিত্রের নায়কের কষ্টটুকু আমার ঘুমের স্বপ্নে এসে ভেঙ্গে ফেলে ঘুমকে।
তা হয়তো আমি বলতে পারবো না। স্মৃতিচারণ করতে পারবো না। পারি না অতীতকে মনে করতে। এতো এতো বই পাঠের ভিড়ে সব হারিয়ে যায় ঘোর কেটে যাবার পর। কিন্তু বইয়ের চরিত্রের নায়ক ওমারের আসমানের ‘আসমার’ সবুজ চোখ দ্বীঘল কালো চুল হয়তো অনেকদিন বিবশ করে রাখবে। প্রতিটা শব্দ থেকে বাক্য,বাক্য থেকে লাইন,লাইন থেকে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা মুগ্ধতার খোলস বের হয়ে আসে।
এতো সুন্দর সাবলীলভাবে মানুষটার পরিবর্তন।
মানুষ বোধ হয় তখন’ই নিকৃষ্ট পথের দিকে পা বাড়ায় যখন পৃথিবীটা তার সহায় হয় না। ভালবাসা যেখানে হেরে যায় সেখানে তার বেঁচে থাকা নিঃস্বার্থ। মানুষ তার চারপাশে এতো এতো ভালবাসা পাবার পর ও নির্দিষ্ট একজনের ভালবাসা চায়। যে শুধু জগতজুড়ে তাকেই চাইবে। ভালবেসে কাঙ্গাল হবে।
কিন্তু যখন সেই ভালবাসায় হেরে যায় তখন হয়তো নিজের জীবন নিয়ে ভাবে না। নিজের জীবনের চারপাশকে নিয়েও নয়। জগতটা কত সুন্দর! এতো এতো মানুষের ভিড়ে তবুও সে একজনকে নিয়ে বাঁচতে চায়। যখন সেই একজনটা ছেড়ে যায় তখন বাঁচার উপায় খুঁজে। হয়তো কেউ তাকে বুঝিয়ে ছামঝিয়ে বন্ধু রুশোর মতন আঁকড়ে ধরে কেউ বা ঘৃণা করে সরে যায়। কষ্টে ভূপতিত হলে কষ্টগুলো ভুলার জন্য কত শত চেষ্টা, প্রচেষ্টা করে।
কেউ পারে কেউ বা নয়। স্রষ্টা কারো মন একভাবে তৈরী করেনি।কারো নরম,কারো শক্ত। ইমাম ইসহাক এবং একজন মায়ের মতো হাজারো মানুষ হলে হয়তো সমাজটা পরিবর্তন হতো। ভালবেসে সবাই সবার পাশে থাকতো।

মানুষ ভালবাসা শব্দটির প্রতি অন্ধের মতো বিশ্বাসী। তাই চার অক্ষরের বর্ণমালার মাঝেই তার দৃষ্টি নিবদ্ধ।
কিন্তু ভালবাসা শব্দটির আড়ালে যে,জীবন নামক শব্দটি লুকিয়ে রয়েছে। সেদিকে আবেগের বশে ভ্রুক্ষেপ করার করে না।
কিন্তু জীবন নামক শব্দটির মাঝে যে,লুকিয়ে আছে আরো কয়েকটি প্রাণ সেদিকে ওতো লক্ষ করতে হবে।।আবেগের বশে সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করে না।

লেখকের বর্ণনাশৈলী বলার মতন। মুগ্ধকর লেখা। মন্ত্রমুগ্ধের মতো মোহগ্রস্ত করে তোলে। ভাবি, স্রষ্টা তার সৃষ্টিকে কতভাবে নানারুপে করেছেন সৃষ্টি। একজন লেখকের কি এমন আছে যে,অপরিচিত এক শক্ত হৃদয়ের মানুষের চোখকে অশ্রুসিক্ত করবে। যে ছেলেটা কখনো কাঁদে না।
যে ছেলেটার চোখ কখনো ছলছল করে না। সবসময় থাকে হাসিখুশি। অথচ সেই ছেলেটার ভেতরে কষ্টের সমুদ্র কেটে পানি ভরে লোনা পানি নিয়ে।
এই সমুদ্রের নাম কেউ জানে না। এই সমুদ্রের নাম কেউ জানতে চায় না। একটা নাম হোক সমুদ্রের। শুধু একটা নাম।
আসমান পড়ে আমার মুগ্ধতা এবং চাপা উত্তেজনা ভেতরে রাখার মতন নয়।লেখকের দারবিশ,দখল পড়ার পর আমার থেকে নিয়ে আরো দশজন পড়েছে।

লেখককে বলিঃ-

উত্তেজনার শিহরণে আমি শিহরিত। চোখ করে ছলছল। সঙ্গিরা বলে যে ছেলেটাকে দেখিনি কভূ কাঁদিতে,যে ছেলেটাকে দেখিনি কভূ নামাজের কাতারে জায়নামাজে বসে খোদার দরবারে কাঁদতে। সেই ছেলেটার চোখ আজ অশ্রুসিক্ত।
সত্যি বলতে কি আপনার লেখায় আমার মন অন্যরকম এক মোহগ্রস্ত হয়ে পড়ে। জানি না তাতে রয়েছে কী,জানি না তাতে রয়েছে কতটা ভালবাসা। সত্যিই বিস্মিত হই একটা মানুষ বাস্তবতার মোড়কে কিভাবে বলে বেড়ায় মানুষের গল্প।
দারবিশ পড়ার পর যখন দখল পড়ি তখন আপনার লেখার প্রেমি পড়ে যাই। আমার ক্লাসমেটরা আমার মতো অত বইপড়ুয়া না। যতটা আমি। ‘দখল’ শেষ করে একজনকে বললাম ইচ্ছে হলে বইটা পড়তে পারো। আশা করি সময়ের অবমূল্যায়ন হবে না।
কথাটা বোধ হয় আমার প্রতি বিশ্বাস থাকায় তার ভেতর বিদ্যুৎ এর মতো লাগছে তার অন্তরে। তারপর আপনি বিস্মিত হবেন। এই একটা বই আমার থেকে নিয়ে দশজন পড়ছে।
তারপর তাদের মুখে লেখকের ভূয়শী প্রশংসাসহ আমাকে অনেক ধন্যবাদ দেয়; এরকম একটা বই সাজেস্ট করার জন্য। এবার আসমান পড়ছি দেখে সবাই জিজ্ঞেস করে কেমন বইটা?
আমার এক বাক্যে অস্থির!তারপর যখন বলে বইটা দিও পড়তে।আমি বলি বইটি সংগ্রহে রাখার মতন।সংগ্রহ করে ফেলো।ইতিমধ্যে অনেকে আমাকে আশ্বাস দিছে বইটা কিনবে বলে।

Obaidul Islam

Article link


পাঠক প্রতিক্রিয়া – ৮

প্রেম ও দ্রোহের কবি, কথার জাদুকর গীতি কবি, লতিফুল ইসলাম শিবলী,আগে লিখতেন ছোট কবিতা এখন লিখেন বড় কবিতা অসংখ্য জনপ্রিয় গানের রচয়িতা তিনি, তুমি আমার প্রথম সকাল, কষ্ট পেতে ভালোবাসি,সুখেরই পৃথিবী,জেল থেকে বলছি, জনপ্রিয় গানের তালিকা অনেক লম্বা, দারবিশ, দখল উপন্যাস দিয়ে পাঠকের মন জয় করেছেন অনেক আগেই, কারন উনার লেখায় রয়েছে ভিন্নতা আলাদা মাদকতা যা পাঠককে পড়ার মধ্যে ডুবিয়ে রাখতে পারে শুধু লেখকের অসাধারণ কিছু শব্দগুচ্ছের প্রকাশভঙ্গীর কারনে।উনার প্রতিটি বইয়ে লেখা থাকে, “The Fiction Based on Fact” এবারের বইমেলায় “আসমান ” নিয়ে হাজির হয়েছেন। আগের বই দুইটির তুলনায় এবারের “আসমান ” সম্পুর্ন আলাদা লেগেছে আমার কাছে, একটা মানুষের জীবনকে খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে রয়েছে সমস্যা সেখানেই উত্তর দিয়ে বুঝানো হয়েছে ” পারপাস অব লাইফ ” হৃদয় আল্লাহর ঘর
এই লাইন দিয়ে গল্পের শুরু, গল্পের শুরুর দিকে ইমাম সাহেবকেই নায়ক মনে হয়েছে।প্রেম,ভালবাসা, হতাশাগ্রস্ত জীবন,সমাজব্যবস্থা,ভাববাদ, পুজিবাদ,রাস্ট্রব্যবস্থা, যুদ্ধ, জিহাদ প্রতিটি বিষয় এতো সহজভাবে বুঝানো হয়েছে যে কাউকেই মুগ্ধ করবে ” আসমান ” পড়ার সময় মনে হচ্ছিলো সবকিছু চোখের সামনেই ঘটছে। মনে হচ্ছে কোন চলচ্চিত্র দেখছি।চমকে উঠলাম ১২ বছর পর যখন নির্দোশ প্রমান হলো গল্পের নায়ক”ওমার ” যখন সে মুক্ত তার সামনে পুরো পৃথিবীটা মনে হলো কারাগার শুধু খোলা ” আসমান ” জানতে হলে পড়তে হবে,

লেখকের জন্য শুভকামনা আর ভালবাসা।

Mosharrof Hossain

Article link


পাঠক প্রতিক্রিয়া – ৯

জীবন মানেই ছোটো বড় কতগুলো গল্পের সমষ্টি। ছোটো বড় সেই গল্প গুলো মিলেই গড়ে উঠে একটা জীবন। সূর্যোদয় থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলে সেই জীবনের একেকটা দিনলিপী৷ এভাবে জীবনে যোগ হয় নতুন নতুন দিন, নতুন নতুন ঘন্টা আর নতুন নতুন কিছু মুহুর্ত। এই সব মুহুর্ত গুলোর প্রাপ্তি হয়ে থাকে কিছু স্মৃতি। আর সেই স্মৃতি গুলোর পেছনে ছায়ার মতোই দাড়িয়ে থাকে কিছু গল্প। এভাবেই গল্পের সমস্টিতে গড়ে উঠে জীবন। কখনো কখনো জীবনের গল্প গুলো এতোটাই বিস্তর হয়ে উঠে যে, সেই গল্প গুলো জীবনের চেয়েও বড় হয়ে যায়।
আসমান উপন্যাসটাও এমনই। বিশাল আসমানের মাঝে ডানা ঝাপটে উড়তে থাকা একটা পাখি। অথচ সমস্ত আসমান জুড়ে কেবল তার ই গল্প৷
প্রতিটা লাইন পড়ছিলাম আর মুগ্ধ হচ্ছিলাম। ইসলাম, জীবন, জীবনের মানে, সাম্রাজ্যবাদ, প্রেম, বিরহ, অশ্রু, নামাজ, ইবাদাত,যুদ্ধ, জিহাদ, পুজিবাদ, রক এন্ড রোল আর সর্বোপরি আধ্মাতিকতার এক অনন্য মিশ্রণ।

কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন হয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন পথের দিকে পা বাড়ানো ওমার ই ইমামের মতো একজন বন্ধু পেয়ে হয়ে উঠে আলোকিত এক মানুষে।
নেশায় মত্ত হয়ে থাকা ওমারের তালেবান যুদ্ধের সাথে যুক্ত হওয়া আর সবশেষে গুয়েতনামো বে এর জেলে বিনা বিচারে ১২ বছর জেল খাটার পর দেশহীন, ভূমিহীন এক পরিণত মানুষে পরিণত হওয়ার মাঝে রয়েছে বিশাল এক গল্প। যে গল্পটা তার জীবন কে ছাপিয়ে পরিণত হয়েছে আরো বিশাল কিছু তে।

ধর্ম আর জীবনবোধ নিয়ে এতো গভীর আধ্যাত্মিক কথাগুলো যতোই পড়ছিলাম ততোই মুগ্ধ হচ্ছিলাম। ইসলামের গভীরতা যে কতোটা বিশাল তার কিছুটার হলেও স্মাদ পেয়েছি এই বইটাতে। এতো সুন্দর বর্ণনা চোখ জোড়াকে আটকে রাখতে বাধ্য করছিলো বইটির উপর।

ওমারের জীবনের উত্থান পতন দেখে কখনো কখনো অশ্রু সিক্ত হয়েছে মহাজাগতিক পানি নামক লবনাক্ত জলে, আমার কখনও বা মুগ্ধ হয়ে ভেবেছি সুন্দর সুন্দর লাইনগুলোর গভীরতা নিয়ে।

ইতিহাস আর গল্পকে একই ট্রেনে পাশাপাশি সিটে বসিয়ে দিয়ে একই পথে খুব সুন্দর আর মনোমুগ্ধকর ভাবে এগিয়ে নিয়ে গেছেন লেখক।

ধর্ম, কুরআন, হাদীসের দৃষ্টিকোণ থেকে জীবনের জটিলতা গুলো সমাধানের যে অনন্য অসাধারন দৃষ্টান্ত লেখক রেখেছেন তা সত্যিই মুগ্ধকর। লেখকের ভাষাশৈলী, মনোমুগ্ধকর বর্ণনা আর সর্বোপরী আধ্যাত্মিকতা আসমানকে দিয়েছে এক বিশাল মর্যাদা। প্রতিটা লাইনে লেখকের জ্ঞান, প্রজ্ঞা আর বইটির পেছনের নিরলস পরিশ্রমের অস্পর্শী ছোঁয়া খুজে পাচ্ছিলাম যা আমাকে বাধ্য করেছে বইটি নিয়ে লিখতে৷ সত্যি বলতে ওমারের জীবনের গল্পটার শেষের দিকটা নিজের অজান্তেই আমার চোখ দুটোকে কান্না করতে বাধ্য করেছিলো।
তাই আমি তৃপ্তির সাথে কেঁদেছিলাম আর ঝাপসা হয়ে উঠা দৃষ্টিতে একমনে আসমান পড়ছিলাম৷

সব কিছু মিলিয়ে আসমান এমন অনন্য এক সৃষ্টি যা একজন পাঠক কে আটকে রাখতে বাধ্য, একজন পাঠক কে জীবন, প্রেম, জীবনবোধ, বিরহ আর ধর্মের সাথে তাদের সম্পর্ক নিয়ে ভাবাতে বাধ্য।
আসমান সেই বিশালতার নাম যেই বিশালতায় এক বিন্দু শিশির কণাও লাভ করে অসীমতার মর্যাদা।

লতিফুল ইসলাম শিবলী স্যারের বোহেমিয়ান জীবন আর তার গভীর আধ্যাত্মিক লেখার কারনে উনি পরিণত হয়েছেন আমার প্রিয় একজন লেখকে। তাই তার কাছে ভবিষ্যতেও এমন দারুন দারুন কিছু গল্পের আশা করবো।

বইটি থেকে ভালোলাগা প্রিয় কিছু লাইনঃ-

১।আমি তাকে মাটি নামে ডাকতাম। আমি তাকে আমার জীবনের শেষ গন্তব্য হিসেবে মেনেছিলাম। মাটিই তো জীবিত প্রাণের শেষ গন্তব্য, তাই না।

২।তোমার হাতে তোমার কোনো প্রিয় জিনিসই নিরাপদ নয়৷ যেকোনো সময় তা কেড়ে নেওয়া হবে, এমনকি তোমার প্রিয় জীবনটাও৷ তাই শিক্ষা হলো যা কিছু পেয়েছ তার জন্য এতো উল্লাসের কিছু নেই, যা হারিয়েছ তার জন্য এতো বিষাদেরও কিছু নেই।

৩।কাদার মধ্যে থেকেও বাইন মাছের গায়ে কোনো কাদা লাগে না৷ তুমি বস্তুর সমুদ্রে থাকবে কিন্তু বস্তু তোমাকে ডুবাতে পারবে না। তুমি বস্তুকে ভোগ করবে কিন্তু বস্তু তোমাকে ভোগ করতে পারবে না৷

৪। মানুষ তখনই শ্রেষ্ঠ যখন সে ভোগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, আর না পারলে সে একটা সাধারন প্রাণী ছাড়া আর কিছুই না৷

৫। যে দোয়া কবুল হয় সে দোয়া প্রার্থনাকারীকে স্পর্শ করে৷

৬।ইমান শুরু হয় অন্তর থেকে, পরে দেহের বাইরে ইসলাম রুপে সেটা প্রকাশ পায়। ইসলাম শুরু হয় বাইর থেকে পরে অন্তরে প্রবেশ করে তা পূর্ণতা পায়৷

৭। আমি প্রেমে পড়ার পূর্বেই প্রেমের গল্প বলেছি,
কিন্তু আমি যখন প্রেমে পড়লাম
তখন বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম।

৮। আকাঙ্খা থেকে বেঁচে থাকার নামই স্বাধীনতা।

৯। আপনি ওমার যদি পাখি হতে পারেন তবে আমি আসমা, আসমান হয়ে যাবো৷

১০। এই মধ্য এশিয়ান জোছনায় সিল্করোড ধরে নিঃশব্দ ছায়া ফেলে চলে যাই যে ক্যারাভ্যান তার নাম ইতিহাস৷

Asikul Islam Asik

Article link


পাঠক প্রতিক্রিয়া – ১০

বই reveiw নিয়ে আমি কি লিখবো এই 1বছর আগেওতো আমার বই পড়া নিয়ে ছিলো চরম অভক্তি। আমার স্পষ্ট মনে পরে school college এর বাংলা বই এর গল্পগুলোও আমি না পড়ে প্রিয় কোন বন্ধুর কাছে থেকে গল্পের সারাংশ শুনে নিতাম পরিক্ষার প্রশ্ন face করার জন্যে। গল্পের বই পড়ে সময় নষ্ট করার মত সময় যেন আমার ছিল না বরং সেই সময়ে টিভি দেখা বা কিছু extra দুষ্টুমি করেই যেন আমি বেশি মজা পেতাম।

গতবছর বইমেলার আগে দিয়ে হঠাত এক দিন fb তে scroll down করতে করতে লাতিফুল ইসলাম শিবলী’র “দখল” বইটির advertisement চোখে পড়ল। বইটি আমাকে এতটাই attract করলো যে আমি 27বছর বয়সে প্রথমবারের জন্য বই মেলাই গিয়েছিলাম বইটা কিনতে। এর আগেও বই মেলায় গিয়েছি but just to give company to my friends. “দখল” আমার হৃদয় এমন ভাবে দখল করে নিল যে টানা ২বার বইটা পড়েছিলাম, আমার husband কেউ বলেছিলাম, পড়ে দেখেন… মনে হবে যেন আমাদের গল্প। এ-ই শুরু… this is the book which makes me reader. Or u can say ,,, this writter made me to love reading. Then উনার ১ম বই “দারবিশ” পড়লাম, সেটাও ছিলো একটা অন্ন রকম অনুভুতি। এরপর থেকেই শুরু হলো উনার বইয়ের অপেক্ষা।

Finally ১বছর পর এই বইমেলায় পেলাম উনার লেখা “আসমান”। মাঝে এই এক বছরে আমি ৫০+ বই পড়েছি। আজকে আসমান পড়ে শেষ করলাম…..এবং বইটির প্রতি আমার মুগ্ধতা যেন আসমানের বিশালতার সমান। লেখকের লেখনীর আর বইয়ের technical বিশ্লেষণ করার যোগ্যতা আমার নেই। শুধু এতটুকুই বলব বইটি পড়ার সময় আমি কোন একটা সম্মোহোনের মধ্যে ছিলাম। আর যদি rating দিতে হয়,,, আমার জন্য এটা 100 out of 10. লেখকের প্রতি আমার request থাকবে আপনি এমন আরও অনেক বেশি বেশি লেখা আমাদেরকে উপহার দেন।

Taasnova Nahin

Article link


Related posts